যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার পরিস্থিতি কেমন হবে সে বিষয়ে প্রথমবারের মত নিজেদের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। গত বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সরকারি এ পরিকল্পনা পেশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। প্রকাশিত এই পরিকল্পনায় গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর যেকোনো পদক্ষেপের ‘দায়মুক্তি’ ঘোষণা করা হয়েছে।
জানা যায়, ইসরায়েল পন্থী বা গাজায় হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেনা এমন ফিলিস্তিনি প্রশাসন দ্বারা গাজায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে ইসরায়েল। এছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য গাজায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে নেতানিয়াহুর পরিকল্পনায়।
গাজার নিজেদের দখল বলবৎ রাখতে এই পরিকল্পনা নিয়েছেন নেতানিয়াহুর সরকার। এমনটিই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মন্ত্রীসভায় উত্থাপিত ওই পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের সীমান্তে নিরাপত্তা বাফার জোন মোতায়েন করবে ইসরায়েল। যার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাদের হাতে। এই বাফার জোনটি অনির্দিষ্টকালের জন্য মোতায়েন করা হবে।
পরিকল্পনার আওতায় ইসরাইল জর্ডানের পশ্চিমে পুরো এলাকার স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গাজায় জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া পরিকল্পনাটি যদি কোনো ধরণের আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই অনুমোদন পায় তাহলে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ আরো বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের আকাশ ও স্থল হামলায় বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৮৫ শতাংশ বাসিন্দা। এছাড়া এদের বেশির ভাগই প্রতিদিন খাবার পানি এবং খাদ্যের তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। অন্যদিকে তেল আবিবের অবরোধে বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটে পড়েছে গাজার হাসপাতালগুলো। গতকাল নাসের হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, সেখানে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে অন্তত ৭ জন রোগী প্রাণ হারিয়েছেন। গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ ঘরবাড়ি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এর আগে জাতিসংঘের আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ করেছ দক্ষিণ আফ্রিকা। জানুয়ারিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে তেল আবিবকে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিজে)। এছাড়া গাজার বেসামরিক নাগরিকদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিতের লক্ষ্যেও কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তবে এসব আদেশ অমান্য করেই রমজানে গাজার দক্ষিণের শহর রাফায় হামলার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল।