Mohin Arham
Executive Editor
ছায়ানটের প্রতি একটি অংশের ছাত্র–জনতার বিরূপ মনোভাব তৈরি হওয়ার পেছনে একাধিক সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিককারণ কাজ করেছে। বিষয়টি একরৈখিক নয় বরং সময়, প্রেক্ষাপট ও ঘটনাভেদে এই মনোভাবের তীব্রতা বদলেছে। সংক্ষেপে কিন্তুবিশদভাবে কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক
ছায়ানটকে অনেকেই মনে করেন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও বাম–উদার (secular-liberal) ধারার ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক সংগঠন।
ফলে রাজনৈতিকভাবে সচেতন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়।
২. ধর্মীয় অনুভূতি ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপন
ছায়ানট মূলত রবীন্দ্রসংগীত ও শুদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতির ধারক—এটাই তাদের শক্তি, আবার এটিই বিতর্কের জায়গা।
এতে করে ছায়ানটকে “এলিট” বা “একপেশে সংস্কৃতি চর্চার সংগঠন” বলে আখ্যা দেওয়া হয়।
৩. তরুণদের সাথে সংযোগের ঘাটতি
বর্তমান প্রজন্মের ছাত্ররা:
ছায়ানটকে অনেকের চোখে মনে হয়:
ফলে “আমাদের কথা তারা বলে না”—এমন ধারণা তৈরি হয়।
৪. গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বয়ান
অনেক ছাত্র এসব বয়ান গ্রহণ করে ফেলে।
৫. প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা
ছায়ানটের ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবময়—বিশেষ করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা।
উপসংহার
ছায়ানটের প্রতি বিরূপ মনোভাব মূলত:
এই সবকিছুর সম্মিলিত ফল।
তবে মনে রাখা জরুরি, ছায়ানট এখনও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বিরূপতা যেমন আছে, তেমনি এখনো অনেক ছাত্র–তরুণ তাদের শ্রদ্ধা ও গুরুত্ব দেন।