আসন্ন রমজানের আগেই গাজায় যুদ্ধবিরতির জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার পরও আলোচনার প্রচেষ্টা থেমে নেই। রমজানের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার।
শুক্রবার হোয়াইট হাউজে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, মুসলিমদের পবিত্র মাস শুরু হতে চলেছে ১০ বা ১১ মার্চ। ততক্ষণে আপনি একটি চুক্তি আশা করছেন কিনা? জবাবে বাইডেন জানান, তিনি আশাবাদী যে রোজা শুরুর আগেই হামাস-ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হবে। তবে তিনি এটাও জানিয়েছেন, এ সময়ের মধ্যে চুক্তির বিষয়টি সমাধা নাও হতে পারে।
সাংবাদিকেরা বাইডেনের কাছে জানতে চান, গত সপ্তাহে তিনি জানিয়েছিলেন যে আগামী সোমবারের মধ্যেই গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি হতে পারে। তো সোমবার ঘনিয়ে আসার পরিপ্রেক্ষিতে এ চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা কতটা? এ সময় জবাবে বাইডেন জানান, বিষয়টি আপাতত ‘অসম্ভব’।
এদিকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, ‘আমরা এখনো আশাবাদী রমজানের আগে চুক্তি হবে। তবে আজ বা কাল কিছু ঘোষণা করা সম্ভব হবে, এমন কোনো আশা নেই আমাদের। কিন্তু আমরা আশা করছি কোনো এক ধরনের সমঝোতা হবে।’
রমজান শুরু হওয়ার আগেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শৌকরি। আন্তর্জাতিক জোট আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে তুরস্কে রয়েছেন শৌকরি। সেখানে এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে পারি যে এ যুদ্ধের সব পক্ষ, অর্থাৎ আমরা সবাই এরই মধ্যে সমঝোতার একটি পয়েন্টে পৌঁছতে পেরেছি। আশা করছি, রমজানের আগেই গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি হস্তান্তর শুরু হবে।’
যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, রমজানের শুরু থেকে সব সামরিক অভিযান ৪০ দিনের বিরতির বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি এ সময় গাজায় সাহায্যের প্রবাহও বাড়বে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী গাজায় উড়োজাহাজ থেকে ত্রাণসহায়তা ফেলবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমাদের আরো বেশি কিছু করতে হবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরো কিছু করবে।’ তিনি জানান, সাগরপথে গাজায় ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দিতে একটি মেরিটাইম করিডোর স্থাপনের বিষয়ে ভাবছে তার দেশ।
এদিকে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে কোনো পরিবর্তন না এলে গাজায় দুর্ভিক্ষ প্রায় অনিবার্য বলে হুঁশিয়ার করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএর মুখপাত্র জেন্স লার্কে বলেছেন, ‘একবার দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হলে তা অনেকের জন্যই অনেক দেরি হয়ে যাবে। আমরা সেই পরিস্থিতি চাই না এবং তার আগেই পরিস্থিতি উন্নতি করতে চাই।’
এদিকে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৩০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। নিহতের এ সংখ্যা গাজার ২৩ লাখ জনসংখ্যার ১ দশমিক ৩ শতাংশ।