মস্কোর ঘটনার পর সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় ফ্রান্স সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। ব্রিটেনও ইউরোপে আইএস গোষ্ঠীর হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না। জার্মানি রাশিয়ার আচরণও ইউরোপের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে।
রোববার সে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আটাল উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারির কথা জানান। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁও সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ফ্রান্স গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক আয়োজনের ঠিক আগে ইসলামিক স্টেট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হুমকির আশঙ্কা যে হালকা-ভাবে নিচ্ছে না, সরকার তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
ফ্রান্সে সন্ত্রাসী হামলা সম্পর্কে সতর্কতার তিনটি পর্যায় রয়েছে। দেশে বা বিদেশে এমন আশঙ্কার মাত্রা স্পষ্ট হলে সীমিত সময়ের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা ঘোষণা করা হয়। সরকার সেই সিদ্ধান্ত নিলে সশস্ত্র বাহিনী প্রকাশ্যে টহলদারি আরো বাড়াতে পারে। সেইসঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রশাসন ব্যয়ের তোয়াক্কা না করে বাড়তি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতাও রাখে। সংকটের সময়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে নাগরিকদের তথ্যও পাঠানো যায়।
ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী জেরিমি হান্ট বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার জোরালো তৎপরতার কারণে তার দেশে সাম্প্রতিক কালে অনেক বিপদ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে ব্রিটেন তথা ইউরোপে আইএস-এর মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নৃশংস হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
মস্কোর হামলার জন্য রাশিয়া যেভাবে ইউক্রেনকে পরোক্ষভাবে দায়ী করছে, তার ফলেও ইউক্রেন তথা ইউরোপে বিপদের আশঙ্কা বাড়ছে। জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেসার রাশিয়ার বেড়ে চলা আগ্রাসী আচরণকে জার্মানির জন্যও বিশাল হুমকির কারণ হিসেবে দেখছেন। গুপ্তচরবৃত্তি থেকে শুরু করে মিথ্যাচারের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টার নতুন মাত্রা দেখা যাচ্ছে।
ফিনল্যান্ডের সীমান্তে অভিবাসন-প্রত্যাশীদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে রাশিয়া ইউরোপের স্থিতিশীলতা বিপন্ন করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এক সংবাদপত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম ইউরোপে রাশিয়ার প্রভাব মোকাবিলা করতে জার্মান সরকার আগামী সপ্তাহগুলিতে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।