সম্প্রতি সিরিয়ায় থাকা ইরানের কনস্যুলেট অফিসে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনার পর ইসরাইলের বিরুদ্ধে চরম প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান।
আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, ইতোমধ্যে হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান। যেকোনো সময় মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো জায়গায় ইসরাইলি স্বার্থে আঘাত হানতে পারে ইরান। এ নিয়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পাশাপাশি আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে ইরানের রাজধানী তেহরানে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিতের সময় বাড়িয়েছে জার্মান বেসামরিক বিমান পরিবহণ সংস্থা লুফথানসা। সিরিয়ায় ইরানের দূতাবাসে ইসরাইলি হামলার পাল্টায় ইরান হামলা চালাতে পারে—এমন শঙ্কা থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে লুফথানসা।
ইরানের পাল্টা হামলার শঙ্কায় ১ এপ্রিল থেকে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। ওই দিন সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের দূতাবাস প্রাঙ্গণে ইসরাইলের জঙ্গিবিমান থেকে বোমা ফেলা হয়।
লুফথানসা বৃহস্পতিবার বলেছে, ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত তেহরানের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে তারা। এর মধ্য দিয়ে ফ্লাইট স্থগিতের সময় দুই দিন বাড়িয়েছে তারা। লুফথানসার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, উড়োজাহাজের ক্রুদের যাতে তেহরানে রাত যাপনের জন্য অবতরণ করতে না হয়, সে জন্য গেল সপ্তাহান্ত থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে তেহরানে ফ্লাইট না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
পশ্চিমা বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে শুধু লুফথানসা ও এর সহযোগী বিমান পরিবহণ সংস্থা অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইন্সই তেহরানে ফ্লাইট পরিচালনা করে। টার্কিশ এয়ারলাইন্স ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিমান পরিবহণ সংস্থাগুলোই সাধারণত সেখানে যাত্রী পরিবহণ করে।
লুফথানসার মালিকানাধীন অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইন্স সপ্তাহে ছয়বার ভিয়েনা থেকে তেহরানে যাত্রী পরিবহণ করে। সংস্থাটি বলেছে, তারা এখনো বৃহস্পতিবার তেহরানে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। তবে রাতে তেহরানে অবস্থান এড়ানোর চেষ্টা করছে।
সূত্র: রয়টার্স