জর্ডানের আকাশসীমা দিয়ে ইরানের পাঠানো যেসব ড্রোন ইসরাইলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছিল সেগুলোকে বাধা দেওয়া এবং গুলি করে ভূপাতিত করেছে দেশটির বিমানবাহিনী। যদিও ইরান হুঁশিয়ার করে বলেছিল, যে দেশ ইসরাইলের পক্ষ নেবে তাদেরকেও ছাড়া হবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা বলেন, জর্ডান উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের রাডার সিস্টেম ইরাক ও সিরিয়া থেকে কোনো ড্রোন আসছে কিনা তার ওপর নজর রাখছে।
জর্ডানের উত্তরের সিরিয়া সীমান্তবর্তী নগরগুলোর বাসিন্দারা আকাশে ভারী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারাও একই ধরনের শব্দ পাওয়ার কথা বলেছেন।
রাজধানী আম্মানের দক্ষিণপ্রান্ত থেকে বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত হতে দেখা গেছে। জেরুজালেম থেকে আম্মানের দূরত্ব মাত্র ৬০ কিলোমিটার।
একটি বড় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা মার্জ আল হাম্মামে পড়েছে।
এর আগে শনিবার রাত থেকেই জর্ডান সব ধরনের উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরান থেকে হামলা হতে পারে আশঙ্কা করে তারা সীমান্তে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
এ বিষয়ে জর্ডান সরকারের মুখপাত্র মুহান্নাদ মুবাইদ্বীন বলেন, ‘আশপাশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আকাশপথ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।’
তবে গণমাধ্যমে দেশটিতে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণার যে খবর প্রকাশ করা হয়েছে তা তিনি অস্বীকার করেন। বলেন, নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার মত কোনো কারণ নেই।
তবে জর্ডান সরকার যতই নাগরিকদের উদ্বিগ্ন না হতে বলুক; অবস্থানগত কারণে দেশটির নাগরিকরা উদ্বিগ্ন হতেই পারেন। জর্ডানের দুই প্রতিবেশী সিরিয়া ও ইরাক। যে দুই দেশে ইরানের প্রক্সি বাহিনীগুলো দারুণ সক্রিয়। জর্ডানের পাশেই ইসরাইল এবং ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীর।
গাজায় হামাসের সঙ্গে ইসরাইলের যে লড়াই চলছে তাতেও উভয় পক্ষের গোলাগুলির মাঝখানে পড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে জর্ডানের।